প্রযুক্তির যুগে বেড়েই চলছে শব্দ দূষণ

তোয়াহা হাদিঃ

মনের ভাব প্রকাশের মাধ্যম হল ভাষা। আর এই ভাষা প্রকাশের মাধ্যমই হল শব্দ। তবে প্রযুক্তির যুগে এখন বিনোদনের জন্য ছবির পাশাপাশি শব্দেরও বহুল ব্যবহার হচ্ছে। এই শব্দকে শ্রবণের দিক থেকে দুইভাগে ভাগ করা হয়। যেমন শ্রুতি মধুর এবং শ্রুতি কটু। আর এই শ্রুতি কটু শব্দকেই বলা হয় শব্দ দূষণ। শব্দদূষণ বলতে মানুষের বা কোনো প্রাণীর শ্রুতিসীমা অতিক্রমকারী কোনো শব্দ সৃষ্টির কারণে শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনাকে বোঝায়।

যানজট, কলকারখানা থেকে দূষণ সৃষ্টিকারী এরকম তীব্র শব্দের উৎপত্তি হয়। মানুষ সাধারণত ২০-২০,০০০ ডেসিবেলের কম বা বেশি শব্দ শুনতে পায় না। তাই মানুষের জন্য শব্দদূষণ প্রকৃতপক্ষে এই সীমার মধ্যেই তীব্রতর শব্দ দ্বারাই হয়ে থাকে। বর্তমান বিশ্বে এখন পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি শব্দ দূষণ-ও মারাত্মক আকারে বেড়ে গেছে এমনটাই মনে করেন পরিবেশবিদ-রা। তাঁরা মনে করেন যে এর জন্য আধুনিক সমাজই দায়ি। আর এর দায়ের পিছনে আছে আমাদের পৃথিবীর কিছু অসচেতন মানুষ। শব্দ দূষণের দিক দিয়ে বাংলাদেশের অবস্হানও সর্বোচ্ছ। আমাদের এই যান্ত্রিক শহরে প্রতিদিনই যানবাহনের এবং কলকারখানার উচ্চ শব্দে শব্দ দূষিত হচ্ছে। এছাড়াও উন্মুক্ত স্হানে এবং জনবহল এলাকায় অতিরিক্ত মাইক ব্যবহার করে জনসমাবেশ, কন্সার্ট করা, অযথা গাড়ির হর্ণ বাজানো, অকারণেই এম্বুলেন্স এবং পুলিশের গাড়িতে সাইলেন্স ব্যবহার এবং নির্বাচনি প্রচারণায় অতিরিক্ত মাইকের ব্যবহার মূলত এসব কারণেই আমাদের দেশে শব্দ দূষিত হয়। কান যেকোনো শব্দের ব্যাপারে যথেষ্ট সংবেদী। তাই তীব্র শব্দ কানের পর্দাতে বেশ জোরে ধাক্কা দেয়, যা কানের পর্দাকে নষ্টও করে দিতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে এর ক্ষতিকর প্রভাব সুদূর প্রসারী। মনুষ্য স্বাস্থ্য শব্দদূষণের কারণে মানুষের স্বাস্থ্য এবং আচার-আচরণ – উভয় ক্ষেত্রেই সমস্যার সৃষ্টি করে থাকে। অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত শব্দের কারণে ব্যক্তির শারীরিক ও মানসিক স্বাভাবিক কার্যকলাপ ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। শব্দদূষণের কারণে দুশ্চিন্তা, উগ্রতা, উচ্চ রক্তচাপ, টিন্নিটাস, শ্রবণশক্তি হ্রাস, ঘুমের ব্যাঘাতসহ অন্যান্য ক্ষতিকর ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া ঘটতে পারে। এছাড়াও, অন্যান্য শারীরিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে ভুলোমন, মানসিক অবসাদ ইত্যাদি হতে পারে।

শিশুর শব্দদূষণগত কারণে শারীরিক এবং মানসিক বিকাশেও ব্যাপক প্রভাব সৃষ্টি করে থাকে। শব্দ দূষণ নিয়ে প্রতিনিয়তই মানুষের মধ্যে রয়েছে বিরক্তির চিহ্ন। আমাদের দেশে শব্দ দূষণকারীর জন্য রয়েছে আইন। আইনের সঠিক প্রয়োগ হলে শব্দ দূষণ কমানো খুবই সহজ। এই ব্যাপারে যদি আমরা সবাই সচেতন না হই তাহলে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম হুমকির মুখে পড়বে।

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password