সপ্নকন্যা সাবরিনা নওরিন

মামুনুর রশিদ রাজিব, ক্যাম্পাস প্রতিনিধিঃ

মানুষ সপ্ন দেখতে ভালবাসে, ভালবাসে সপ্নের মত করেই নিজের জীবনটাকে সাজাতে। কিন্তু কজন পারে তার সঠিক গন্তব্যে পৌছাতে। এমন অনেক কে দেখেছি, কালের বিবর্তনে যাদের সপ্নগুলো হারিয়ে গেছে মরিচীকার মত। আবার অনেকে আছেন যারা শতবাধা উপেক্ষা করে টিকে থাকে স্ব-মহিমায়, স্ব-গৌরবে। আর এদেরি পাল্লা ভারি করতে সপ্নের সিড়ি বেয়ে উঠে আসছে এক সপ্ন কন্যা। কিন্তু কে এই সপ্ন কন্যা? নাম সাবরিনা নওরিন।বাবা খায়রুল আলম এবং মা মেহেরুন্নাহার জলির তিন সন্তানের মধ্যে সবচেয়ে আদরের ছোট্ট খুকীটিই সম্প্রতি আরটিভি ডাবোর ভাটিকা ক্যাম্পাস স্টার প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করেছে। সুযোগ পেয়েছে ডাবর ভাটিকার একটা বিজ্ঞাপনে কাজ করার।তার সেই সপ্নের সিড়ি খুজে পাওয়া এবং সেই সিড়ি বেয়ে উঠতে থাকার গল্প শুনিয়েছেন, হাতেখাড়ির স্টাফ রিপোর্টার মামুনুর রশিদ রাজিব কে।

হাতেখাড়িঃ আপু, কেমন আছেন?

সাবরিনাঃ জি ভাইয়া ভাল আছি।

হাতেখাড়িঃ আমরা আপনার বিষয়ে কিছু জানতে চাই।

সাবরিনাঃ (মুচকি হেসে) আমার নামতো আপনারা জানেন। আমি সাবরিনা নওরিন। আমার জন্ম এবং বেড়ে ওঠা ঝালকাঠিতে। বাবা খায়রুল আলম তালুকদার পদ্মা অয়েল কোম্পানীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং মা মেহেরুন্নাহার জলী গৃহিনী হলেও অনিয়মিত ভাবে গান করেন বরিশাল বেতারে। তিন ভাই বোনের মধ্যে আমিই সবার ছোট।

হাতেখাড়িঃ আগে কোথায় পড়ালেখা করেছেন এবং এখন কোথায় করছেন?

সাবরিনাঃ আমার এসএসসি সরকারী ঝালকাঠি হরতচন্দ্র বালিকা উচ্চ-বিদ্যালয় থেকে এবং এইচএসসি ঝালকাঠি সরকারী কলেজ থেকে। আর এখন আছি স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির বিবিএ ডিপার্টমেন্টে।

হাতেখাড়িঃ যখন প্রতিযোগীতায় প্রথম স্থান অধিকারী হিসেবে অর্থাৎ ক্যাম্পাস স্টার হিসেবে আপনাকে ঘোষনা করা হল, তখন আপনার অনুভূতিটা কেমন ছিল ?

সাবরিনাঃ কি বলব ভাইয়া, একটা কথা আছে না ‘আমি বলে বুঝাতে পারবনা’! আমিও আপনাকে সেই কথাই বলব। আসলে নিজেকে তখন বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না, মনে হচ্ছিল আমি যেন সপ্নের মাঝেও সপ্ন দেখছি।

হাতেখাড়িঃ প্রতিযোগিতার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যদি সংক্ষেপে একটু বলতেন।

সাবরিনাঃ প্রথমে যেদিন অডিশন চলে,আমি ভার্সিটি আসতেই আমার বন্ধুরা বলে, আজকে ভার্সিটির এই আয়োজন ত আমাদের অলরাউন্ডার সাবরিনার জন্য। আমি বিষয় টা বুঝে ওঠার আগেই ওরা আমাকে ধরে নিয়ে যায় ‘আরটিভি ডাবর ভাটিকা ক্যাম্পাস স্টার’ প্রতিযোগীতার রেজিষ্ট্রেশন করাতে। আমি রেজিষ্ট্রেশন করার পর একটু ভয় পাচ্ছিলাম, যদি বাছাই পর্বেই বাদ পরে যাই তবে ওদের সামনে আসব কেমন করে! গানগেয়ে যখন বাছাই পর্বে টিকে গেলাম, তখন যেন হাফছেড়ে বাচলাম। যাক বাছাই পর্বটা তো অন্তত পেরিয়েছি, এখন বাদ পরলে আর সমস্যা নেই। কিন্তু সমস্যা নেই বললেই তো আর হয়না, ইতোমধ্যেই যে আমার মনঃ বাগানে সপ্ন ফুলের কলি বেরিয়েছে! মনে হচ্ছিল যদি আর একটা ধাপ এগোতে পারি তাহলে কতইনা ভাল লাগত। এইভাবে একটা ধাপ একটা ধাপ করে এগোতে এগোতে যখন ফাইনাল পর্বে টপ সিক্সে এসে পৌছলাম, তখন মনে মনে প্রার্থনা করছিলাম যেন সেরা তিনের মধ্যে থাকতে পারি। তারপর যখন দেখলাম আমি সেরা তিনের মধ্যে আছি তখন আমার বুকের মধ্যে দুরু দুরু ভাব চলে এসেছিল কারন তখনও ত প্রথম,দিতীয় এবং তৃতীয় স্থান ঘোষনাই হয়নি। বুঝতেই পারছেন, আমার প্রত্যাশার সীমানাটা একটু বেড়েই গিয়েছিল। তারপর এলো সেই আনন্দ ঘন মূহূর্তের। প্রায় পনেরটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক হাজার প্রতিযোগীর মাঝ থেকে অবশেষে ঘোষিত হল ‘আরটিভি ডাবর ভাটিকা ক্যাম্পাস স্টার’ এর বিজয়িনীর নাম, “সাবরিনা নওরিন”। IMG_20170721_220801

হাতেখাড়িঃ বিচারকদের মন্তব্য গুলোর মধ্যে কোন মন্তব্যটি আপনাকে উতসাহিত করেছিল প্রতিযোগীতায় টিকে থাকতে?

সাবরিনাঃ সবচেয়ে ভাললাগার মন্তব্যটি ছিল শ্রদ্ধেও এস আই টুটূল ভাইয়ার। সেদিন আমার নৃত্য পারফর্ম করার ছিল। নৃত্যের শেষে টুটুল ভাইয়া আমাকে বলেছিল, কনার মুখে শুনেছি সাবরিনা নাকি খুব ভাল গান করে, তা আমার কি তার গান শোনার মত সৌভাগ্য হবে?

হাতেখাড়িঃ আপনার এই সপ্ন যাত্রায় কি কোন বাধার সম্মূখিন হয়েছেন ?

সাবরিনাঃ দেখুন আগেই বলেছি, আমার মা কিন্তু বরিশাল বেতারে গান করে এবং আমার গান শেখাও শুরু তাদের হাতেই সেই জন্মলগ্ন থেকে। অতএব, বাধা বলতে আমাকে কিছু মোকাবেলাই করতে হয়নি।

হাতেখাড়িঃ আগে সপ্ন দেখতেন কি আর এখন দেখেন কি ?

সাবরিনঃ আগেও সপ্ন দেখতাম কন্ঠশিল্পী হওয়ার, এখনো সেটাই দেখি। তবে, ভিত্তিটা আগের তুলনায় একটু শক্ত হয়েছে মনে হচ্ছে।

হাতেখাড়িঃ আপনি অবসর সময়ে কি করেন ?

সাবরিনাঃ অবসর সময়ে গানশুনি এবং গুনগুনিয়ে গান করিও। এছাড়া ছবি আকার বিষয় টাও আমার নেশার মত হয়ে দাড়িয়েছে।

হাতেখাড়িঃ শুধু আমরাই নয় পুরো দেশবাসিই প্রত্যাশা করছে, আপনি এগিয়ে যান আকাশ-চুম্বি সপ্ন নিয়ে। তবে, এইবার আপানাকে একটা একান্ত ব্যাক্তিগত প্রশ্ন করি। জানিনা উত্তর দিবেন কিনা! আপনি তো দেখতে অনেক সুন্দর এবং অলরাউন্ডার পারফর্মার, তো আপনি প্রথম কবে প্রেমের প্রস্তাব পেলেন আর এখন কি অবস্থায় আছেন!

সাবরিনাঃ (লজ্জা মাখানো হাসি হেসে)ভাইয়া, প্রথম প্রোপজ পেয়েছিলাম ক্লাস সিক্সে আর বর্তমান অবস্থাটা না হয় নাই বললাম!

হাতেখাড়িঃ আপনাকে অনেক ধন্যবাদ, আমাদের কে সময় দেয়ার জন্য।

সাবরিনাঃ আপনাদের কেও অনেক ধন্যবাদ।

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password