তাড়া করছে মৃত্যু, থেমে নেই মীর কাশেম

 এস.এম. রুবেল, মহেশখালীঃ

তার পিছনে তাড়া করছে মৃত্যু। মরনব্যাধী বাসা বেঁধেছে তার শরীরে। যে কোন মুহুর্তে তার মুত্যু হতে পারে সে সেটা ভাল করেই জানে। তারপরেও থেমে নেই তার জীবন সংগ্রাম। আয় রোজগারের জন্য বিরতিহীন ভাবে করে যাচ্ছে তার নিজ কর্ম। রাস্তায় দেখা মিলে তেমন একজন যুবকের সাথে। বয়স অনুমান ২০/২২ বছর হবে। কথা বলে জানা যায়, তার নাম মীর কাশেম। বাড়ি মহেশখালী উপজেলার বড় মহেশখালী ইউনিয়নের ফকিরাঘোনা গ্রামে। সে স্থানীয় মৃত তৈয়ম গোলালের পুত্র।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ৩/৪ বছর পূর্বে মীর কাশেমের হার্টের সমস্যা দেখা দেয়। ডাক্তার বলেন, তার একটা বাল্ব নষ্ট হয়ে গেছে। তার উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন। কিন্তু টাকার অভাবে তার চিকিৎসা করা সম্ভব হয়নি। পারিবারিক অর্থনৈতিক চাহিদা পূরণের জন্য মরনব্যাধী কাঁধে নিয়ে সে রিক্সা চালিয়ে আসছে। গত কিছুদিন পূর্বে সে প্রচন্ড অসূস্থ হয়ে যায়। ডাক্তারের শরনাপন্ন হলে ডাক্তার বলেন, তার অপর বাল্বও নষ্ট হওয়ার পথে। তার দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজন। তা না হলে মীর কাশেমকে বাঁচানো যাবেনা। কিন্তু এবারও টাকার অভাবে তার চিকিৎসা করাতে পারছেনা পরিবার।

এলাকাবাসী জানায়, ছেলেটি অনেক ভাল স্বভাবের। সব সময় হাসিখুশি থাকে। পারিবারিক আর্থিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় সে রোগাক্রান্ত হওয়ার পরেও রিক্সা চালায়। প্রতিমাসে কয়েকবার সে অসূস্থ্য হয়ে পড়ে। তখন তার নিশ্বাস বেড়ে যায়। মনে হয় সে তখনই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়বে। কিন্তু একটু সূস্থতা অনুভব করলেই সে রিক্সা চালাতে বের হয়। দেখলে মনে হবে সে পুরোপুরি সূস্থ্য। ছেলেটি প্রচন্ড আত্মবিশ্বাসীও বঠে।

মীর কাসেম এই প্রতিবেদককে জানায়, সে শারীরিক ভাবে খুবই অসূস্থ্য। তার বাম হাত প্রায় অকেজো হয়ে পড়েছে। ডান হাতের সহযোগিতায় কোন রকম বিদ্যুৎ চালীত রিক্সা চালায় সে। অসূস্থ্য শরীর নিয়ে কেন রিক্সা চালাচ্ছে জিজ্ঞেস করলে সে জানায়, তারা খুবই গরীব প্রকৃতির লোক। পরিবারের একমাত্র উপার্জনাক্ষম ব্যক্তি সে। তাই অনিচ্ছা স্বত্তেও দারিদ্রতার কারণে রিক্সা চালাতে হচ্ছে।

মীর কাশেমের মায়ের সাথে কথা বলে জানা যায়, তার ছেলে মীর কাশেমের দুটো বাল্ব নষ্ট। ডাক্তার বলেছে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে অপারেশন করাতে হবে। কিন্তু তাদের টাকা নেই তাই ঢাকা নিয়ে যেতে পারছে না। যা টাকা পয়সা ছিল সব মীর কাশেমের চিকিৎসায় ব্যয় করেছে।

এদিকে মীর কাশেমের আত্মবিশ্বাসী সংগ্রামে অনেকেই অবাক হয়ে গেছে। একদিকে মৃত্যু তার প্রহর গুনছে। আর অন্যদিকে সে অভাব অনটন থেকে বাঁচার জন্য দু’মুটো আহারের খোঁজে প্রতিনিয়ত জীবন যুদ্ধ করে যাচ্ছে। যেখানে অনেক শিক্ষণীয় বিষয় লক্ষ করা যায়। এমন এক আত্মবিশ্বাসী যুবকের জীবন বাঁচাতে বিত্তশালীদের প্রতি সহযোগীতার অনুরোধ করেছেন তার মা সহ স্থানীয় জনসাধারণ।

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password