ক্রিকেট জুয়ার ভয়াবহ ফাঁদ!

সফিউল্লাহ আনসারী:

ইদানিং সামাজিক ব্যাধিতে রুপ নিচ্ছে ক্রিকেট জুয়া। শহর-নগর থেকে গ্রাম,পাড়া-মহল্লায় এই ব্যাধি ছড়িয়ে ভয়াবহ আকার ধারন করছে। স্কুল-কলেজ বিশ্ববিদ্যায়ের শিক্ষার্থী,তরুণ-যুব সমাজ, সর্বস্তরের শিক্ষিত-অশিক্ষিত মানুষ এই জুয়ায় জড়িয়ে সর্বস্থ হারাচ্ছে। এই ক্রিকেট জুয়ার ভয়াবহতা এখন শ্রমজীবি মানুষকেও দারুন ভাবে নি:স্ব করছে। গার্মেন্টসকর্মীরাও এই খেলায় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। সচেতন মহল বলছেন, ‘ক্রিকেট জুয়ার লাগাম এখনই টেনে না ধরতে পারলে আগামী দিনগুলোতে সামাজিক অবক্ষয় আরো বাড়বে’।

এখন চলছে ক্রিকেটের জনপ্রিয় আসর বিপিএল। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল) এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে জুয়াড়িদের ক্রিকেট-জুয়া চলছে সারা দেশের আনাচে-কানাচে। নির্মল আনন্দ ক্রিকেট উৎসব পরিণত হচ্ছে জুয়ার আসরে। গোপনে-প্রকাশ্যে এমনকি চা‘য়ের স্টলে বসে চলছে টিভিতে ক্রিকেট খেলার সাথে এই জুয়া/বাজি ধরার ঘৃণ্য খেলা। কয়েকদিন আগে ঢাকায় বিপিএলে বাজি ধরাকে কেন্দ্র করে খুন হয়েছে ইউনিভার্সিটির ছাত্র।
স্থানীয়ভাবে ব্যাক্তিগত পর্যায় থেকে শুরু করে দলবদ্ধভাবেই নয়, এই অপকর্ম ‘ইন্টারনেটে ক্রিকেট জুয়ার ফাঁদ পেতে আছে বহু ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ।’ ক্রিকেট জুয়ার ভয়াবহতা শুধুই আর্থিকভাবে নয় সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নৈতিক অবক্ষয়, অপরাধ প্রবনতা,সামাজিক শৃংখলাকেও বিনষ্ট করছে।

ক্রিকেট জুয়ায় আসক্তি পারিবারিক কলহ বৃদ্ধি করে অশান্তি সৃষ্টি করছে, যা মোটেই আমাদের এই সমাজ ব্যাবস্থার জন্য সুখকর নয় বরং দুশ্চিন্তার কারন হয়ে দাড়াচ্ছে। খেলাটি ইন্টারনেট তথা জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে বেশী বেশী প্রচারের ফলে সহজলভ্য হয়ে আমাদের প্রজন্মকে গ্রাস করছে। নিরাপদ ও আদর্শ বিনোদন খেলাধুলা আজ ক্ষতিকর জুয়া খেলায় ধাবিত হওয়ায় শংকিত আমাদের অভিভাবক সমাজ। ক্রিকেট খেলায় এমনিতেই আমাদের শিক্ষার্থী, তরুন ও যুব সমাজ একরকম আসক্ত,তারপর এখন এখন এ নির্মল আনন্দকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করায় সামাজিক অবক্ষয়ের কারন হয়ে দাড়িয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে আমাদের সন্তানদের লেখা-পড়া। প্রজন্মকে সঠিক পথে রাখতে,বিপথ থেকে ফেরাতে এই ক্ষতিকর জুয়া/বাজি বন্ধ করা জরুরী।

জানা গেছে এসব জুয়া বা বাজি ধরার জন্য প্রচারনামুলক সাইট চালু আছে।“বাজির আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইটগুলোতে বাজি ধরার আগে বাজিকরেরা যাতে দলের অবস্থা স¤পর্কে ধারণা নিতে পারেন, সে জন্য অসংখ্য ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজ রয়েছে। ফেসবুকের গ্রুপ বা পেজগুলো বিপিএলের বাজি ধরা নিয়েও সরব। এর মধ্যে একাধিক ওয়েবসাইটে বিপিএলে ক্রিকেট বাজির বিষয়ে বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ওই ওয়েবসাইট থেকে সরাসরি বাজি ধরা যায়। তবে ওয়েবসাইটে নির্দেশনা রয়েছে, এখানে বাজি ধরা কেবল যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরতদের জন্য প্রযোজ্য। কারণ, ওই সব দেশে জুয়া আইনসিদ্ধ। যেসব দেশে জুয়া বেআইনি, সেসব দেশের নাগরিকদের ওই ওয়েবসাইট ব্যবহারে নিষেধ করা হয়েছে। কিন্তু দেখা গেছে, নিষেধাজ্ঞায় কোনো কাজ হচ্ছে না। ওই ওয়েবসাইটের হিন্দিভাষীদের আনাগোনাই বেশি দেখা গেছে। ওই সব ফেসবুক পেজ ও ওয়েবসাইটে কিছুক্ষণ পরপর মাঠের অবস্থা, পিচের অবস্থা, সংশ্লিষ্ট বোলার অথবা ব্যাটসম্যানের বিস্তারিত তথ্য ইত্যাদি তুলে ধরা হচ্ছে।”( প্রথম আলো)

“বঙ্গীয় প্রকাশ্য জুয়া আইন (১৮৬৭ সালে প্রণীত) অনুযায়ী, যেকোনো ঘর, স্থান বা তাঁবু জুয়ার আসর হিসেবে ব্যবহৃত হলে তার মালিক বা রক্ষণাবেক্ষণকারী, জুয়ার ব্যবস্থাপক বা এতে কোনো সাহায্যকারী তিন মাসের কারাদন্ড বা অনূর্ধ্ব ২০০ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হতে পারেন। এ রকম কোনো ঘরে তাস, পাশা, কাউন্টার বা যেকোনো সরঞ্জামসহ কোনো ব্যক্তিকে ক্রীড়ারত (জুয়ারত) বা উপস্থিত দেখতে পাওয়া গেলে তিনি এক মাস পর্যন্ত কারাদন্ড অথবা ১০০ টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হতে পারেন। পুলিশ জুয়ার সামগ্রীর খোঁজে যেকোনো সময় (বল প্রয়োগ করে হলেও) তল্লাশি চালাতে পারবে বলেও আইনে উল্লেখ রয়েছে। সেই অর্থ আইপিএল কেন্দ্রিক এই জুয়া অবশ্যই আইনত দন্ডনীয় এবং বেট ৩৬৫ সাইটের কার্যক্রমও এ দেশে বৈধ হতে পারে না।”

সামাজিক শান্তি বিনষ্টকারী কাজের মতোই ক্রিকেট খেলা নিয়ে জুয়া সর্বনাশের কারন হতে পারে। বলে বলে বাজি ধরলে খেলার আনন্দ বৃথা। আর নির্মল বিনোদনকে শেষ করে তরুন-যুব সমাজকে ধ্বংসের দিকে যেতে দেয়া যায় না। এখনই সময় খেলা-ধুলায় অংশ গ্রহন শুধুই আনন্দ-বিনোদনে এসব ভবিষ্যত কর্ণধারদের স¤পৃক্ত করা। এই অবস্থা থেকে বাঁচতে আমাদের পরিবারকে সচেতনতার পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলন,শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঠিক নির্দেশনা,সরকারের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহন এবং সার্বিক সচেতনতা দরকার। সময়ের প্রয়োজনে বন্ধ হোক ক্রিকেট জুয়া আর বাজির আসর।

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password