বাবা-মা থেকেও যেন অসহায় শিশু মানিক

বাবা-মা থেকেও যেন অসহায় শিশু মানিক

রকি আহমেদ ফানি, রংপুরঃ

মানিক মিয়া একজন সংগ্রামী শিশুর নাম। বাবা মা থেকেও অসহায়। জীবন বাঁচাতে এক শহর থেকে অন্য শহরে পাড়ি জমিয়েছে সে। জীবিকার তাগিদে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছে ফুল বিক্রেতা হিসেবে। যে বয়সে হাতে বই-খাতা থাকার কথা; খেলাধুলা করার কথা; মায়ের স্নেহ, বাবার ভালবাসা, পরিবারের সহযোগিতা পাওয়ার কথা এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের কাছ থেকে নিজের অধিকার পাওয়ার কথা সে বয়সে জোটে চায়ের কেটলি, জোটে অবজ্ঞা, তাচ্ছিল্য আর সন্ত্রাসী-মাদকসেবীদের সঙ্গ।

জীবন নামের তরীর মাঝি হয়ে দাঁড়ায় সে নিজেই। কখনও কখনও তার তরী ভিড়ে যায় কোন মাদকসম্রাট, মানবপাচারকারী বা অপরাধীদের গডফাদারের কাছে। যে বয়সে পড়ালেখা করার কথা সে বয়সে সে পেটের দায়ে শ্রম বিক্রি করছে। এক পরিসংখ্যানে জানা যায়, বাংলাদেশে প্রায় ১৩ লাখ শিশু অত্যন্ত ঝুঁকির্পূণ কাজে নিয়োজিত। তারপরও দেখার কেউ নেই এই শিশুদের।

সরকার কিংবা আমাদের সমাজ এদের দেখেও দেখে না। সেটা যাই হোক বলছি শিশু মানিকের কথা।মানিক মিয়ার বাড়ি নওগা জেলার আবাদ পুকুর গ্রামে। ২০১৭ সনে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনি পরিক্ষায় ভালো ফলাফল করে সে। কিন্তু পরিারের আর্থিক অসচ্ছলতা থাকায় ৬ষ্ট শ্রেণীতে ভর্তি হতে পারেননি।পরিবারে পাচঁজন সদস্য মানিকের, তার বাবা আব্দুল মজিদ একজন ভ্যানচালক, তিন ছেলে-মেয়ের পড়াশুনোর খরচ বহন করা সম্ভব ছিলনা তার পক্ষে, তাই বড় মেয়েকে দুবছর আগে বিয়ে দিয়ে দেন এবং ছোট ছেলে তৃতীয় শেণীতে পড়ছে, মানিক মেজো ছেলে, সে তার পরিবারের এই কষ্ট মেনে নিতে না পাড়ায় এলাকার এক নিকটআত্বীয়র সাথে এক মাস আগে চলে আসে রংপুরে।

রংপুরে এসে কোন কাজ না পাওয়ায় বাড়ি থেকে বাবার কিছু জমানো টাকা নিয়ে এসে প্লাস্টিকের ফুলের ব্যবসায় নামে এই শিশুটি। প্রতি সপ্তাহে বগুড়ার সান্তাহার থেকে ফুল কিনে নিয়ে এসে রংপুর নগরীর পার্কগুলো এবং বিভিন্ন কলেজের সামনে বিক্রি করে , তবে দিনের অধিকাংশ সময় কারমাইকেল কলেজে দেখা যায় তাকে।শিশুটি জানায় বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কারমাইকেল কলেজ ক্যাম্পাসে ফুল বিক্রি করে এবং রাত হলে কলেজের অডিটোরিয়াম ভবনের বারান্দায় কনকনে শীতের রাতে ঘুমায় , সকাল হলেই আবারো ফুল নিয়ে ঘুরে বেড়ায় বিভিন্ন স্থানে।

১ টি ফুল সে ৮ টাকায় বগুড়া থেকে এনে ১০ টাকায় বিক্রি করে, অতিরিক্ত যে টাকা বিক্রি করে সেটি দিয়ে তিন বেলা হোটেলে খায়, জমাতে পারেনা কিছুই তাই বাড়িতেও কোনো টাকা পাঠায়না। তবে আকুতি কন্ঠে মানিক মিয়া আওয়াজবিডিকে বলেন তার দুঃখের কথা।

একটি অচেনা শহর তার উপর নেই কোন আপনজন। জীবন চলে যায় তার নিয়মে সেও তা মানতে প্রস্তুত।রংপুরে আসার পর তার বাবা-মায়ের সাথে কখনো যোগাযোগ করতে পারেনি সে, তবে চলে যেতে চায় নিজের ছোট্ট সেই গ্রামে, আবারো স্কুলে ভর্তি হয়ে লেখাপড়া করতে চায়, ছুটে বেড়াতে চায় খেলার মাঠে। কিন্তু অসচ্ছল পরিবারে জন্মগ্রহণ করায় পুরন হচ্ছেনা তার সেই ইচ্ছে। তবুও ফিরতে চায় মানিক।

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password