বিলুপ্তির পথে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঢেকি।

বিলুপ্তির পথে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঢেকি।

মোঃ নাঈম আহম্মেদ তুহিন, সাতক্ষীরাঃ

সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলায় আর তেমন একটা চোখে পড়ে না কাঠের তৈরী ঢেকি, তা ছাড়া আর ঢেকিতে আটাও কোটে না গ্রামের কেউ। গ্রাম গঞ্চের বাড়ীগুলোয় আগের মত আর আটাও কুটতে দেখা যায় না।

আধুনিক যুগে এখন গৃহবধুরা ঢেকির পরিবর্তে বৈদ্যুতিক মেশিন (মোটরে) আটা কুটার কাজ সেরে ফেলে এক সময় আশাশুনি উপজেলার গ্রাম গঞ্চের পাড়া মহল্লায় গৃহবধুরা বিভিন্ন প্রয়োজনে কাঠের ঢেকি দিয়ে আটা তৈরী করত বর্তমানে আধুনিক যুগে গৃহবধুদের আটা কোটার কৌশল পরিবর্তন হয়েছে। এখন তারা কাঠের তৈরী ঢেকির পরিবর্তে বৈদ্যুতিক মোটর দিয়ে আটা তৈরীর কাজ সেরে ফেলে।

গ্রাম বাংলার গৃহবধুরা এক সময় সকালে রান্নার কাজ সেরে পরিবারের স্বামী সন্তানদের খায়ানোর পর কিংবা রাতে ঘুমানোর আগে গভীর রাত পর্যন্ত আটা তৈরীর কাজে ব্যস্ত থাকতো। সেই সময় আটা তৈরীতে ২-৩ জন গৃহবধু নানা ধরনের আঞ্চলিক গীতি গানে মেতে থাকত। এভাবে কাজের মধ্যে গৃহবধুরা বিনোদনের মেতে উঠতো। তারা এভাবে কাজের মধ্যে বিনোদনে মেতে থাকায় তাদের শারিরীক পরিশ্রম কখন বুঝে উঠতে পারত না। এক সময় গ্রাম-গঞ্জের প্রভাবশালী ব্যক্তিতে তাদের কাঠের ঢেকি দিয়ে আটা কোটার প্রচলন থাকলেও আজ সেই বাড়ী গুলোতে কাঠের ঢেকি চোখে পড়ে না।

এখন প্রতিটি গ্রামে ২/১টি করে কাঠের ঢেকি থাকলেও তার ব্যবহার অনেক কমে গেছে। গ্রামের সম্বন্ত এক  পরিবারে বাড়ীতে কাঠের ঢেকি চোখে পরে। ঐ বাড়ীর এক গৃহবধু জানায় তাদের ঢেকি গ্রামের মহিলারা মাঝে মাঝে আটা তৈরিতে ব্যবহার করে। বিশেষ করে শবেবরাতের সময়ে কাঠের ঢেকি ব্যবহার করে আটা তৈরীর ভিড় পড়ে যায়। সেই আটা দিয়ে তৈরী করা হয় বিভিন্ন ধরনের পিঠা।

আজও কিছু কিছু অভিযাত শ্রেণির লোকজনের বাড়ীতে রাখা হয়েছে কাঠের তৈরী ঢেকি। শীত মৌসুমে তাদের পাড়া ও গ্রামের গৃহবধুরা পিঠা কুলি তৈরী করার জন্য তাদের বাড়ীতে আটা কুটার জন্য আসে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পাড়া প্রতিবেশীরা পর্যায় ক্রমে আটা তৈরী করে নিয়ে যায়।

কয়েকজন গৃহবধুর সাথে কথা বলে জানাযায় ঢেকিতে কোটা আটায় পিঠা ভাল হয়। আধুনিক যুগে মেশিনের তৈরী আটার পিঠা ভাল হয় না।

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password